রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কালকিনি থানার অন্তর্গত বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের মধ্যেরচর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের সময় হাতবোমার বিস্ফোরণে বাবা-ছেলেসহ তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোরে মধ্যেরচর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মধ্যেরচর গ্রামের মতিউর রহমান শিকদারের ছেলে আক্তার শিকদার (৪২), আক্তার শিকদারের ছেলে মারুফ শিকদার (২০) এবং খুনেরচর গ্রামের সিরাজুল চৌকিদার (৩৫)। আক্তার শিকদার ছিলেন বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি। সিরাজুল চৌকিদার পেশায় কৃষক ও দিনমজুর ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মধ্যেরচর এলাকায় ফকির ও শিকদার পরিবারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আক্তার শিকদার এলাকার বাইরে চলে যান। শুক্রবার ভোরে তিনি তার লোকজন নিয়ে মধ্যেরচর এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে খবর পেয়ে জলিল ফকিরের সমর্থকরা মাইকিং করে স্থানীয়দের একত্রিত করেন। এর পরেই দুই পক্ষের মধ্যে দেশী অস্ত্রসহ সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে একাধিক হাতবোমা বিস্ফোরিত হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই বিস্ফোরণে আক্তার শিকদার ঘটনাস্থলে নিহত হন। মারাত্মকভাবে আহত হন তার ছেলে মারুফ শিকদার, যাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অন্যদিকে সিরাজুল চৌকিদারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি প্রাণ হারান।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যারা চিকিৎসার জন্য বরিশালের মুলাদি ও শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় র্যাব, পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির জানান, সংঘর্ষে নিহত তিনজন হলেন একপক্ষের সদস্য। নিহতদের মধ্যে আক্তার শিকদার ও তার ছেলে মারুফ শিকদার এবং সিরাজুল চৌকিদার রয়েছেন, যিনি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।